ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গল্প

একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর  গল্প ছবি: সংগৃহীত
ad728
৪১ বছর বয়সে লোকটা এখনো বিশ্বকাপ জেতেনি।
এইটা পড়ে হয়তো মনে হচ্ছে, আহারে, বেচারা। কিন্তু থামো। গল্পটা আহারের না। গল্পটা অন্য জায়গায়।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের লিস্টটা একটু দেখো। পাঁচটা ব্যালন ডি'অর। পাঁচটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইউরো কাপ। নেশনস লিগ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ১৪৩টা। সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ২২৭টা। ক্লাব আর দেশ মিলিয়ে ৯০০ এর বেশি গোল। এই লিস্ট দেখে যেকেউ বলত, ভাই যথেষ্ট হয়েছে। এখন বাসায় বসো।
কিন্তু রোনালদো বসেনি।

কারণ একটা জিনিস এখনো নেই। বিশ্বকাপ।
২০০৬ সেমিফাইনালে থামল। ২০১০ কোয়ার্টারফাইনালে। ২০১৪ গ্রুপ স্টেজেই বিদায়। ২০১৮ রাউন্ড অফ সিক্সটিনে। ২০২২ কোয়ার্টারফাইনালে। পাঁচটা বিশ্বকাপ। একটাতেও ট্রফি নেই।
আর এখন ৪১ বছর বয়সে ষষ্ঠবার মাঠে নামছে।

এই পৃথিবীতে এইটা আগে কেউ করেনি।

কিন্তু যারা শুধু সংখ্যা দেখে তারা আসল গল্পটা মিস করে। আসল গল্পটা হলো কোথা থেকে এসেছে এই লোক।

পর্তুগালের ছোট্ট মাদেইরা দ্বীপ। বাবা মাতোয়া, মানে মাঠ দেখাশোনা করতেন। পরিবারের এতটাই টানাটানি ছিল যে চারজন একটা ছোট্ট ঘরে থাকত। আর সেই ছেলের হার্টে সমস্যা ধরা পড়ল ছোটবেলায়। অপারেশন হলো। ডাক্তার বলেছিল ফুটবল হয়তো হবে না।
সেই ছেলে এখন ৪১ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে।

মাঝখানে কী ছিল? শুধু কাজ। প্রতিদিন, প্রতিটা ট্রেনিং সেশনে সবার শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকা। ঘুমানোর আগে আলাদা করে ওয়ার্কআউট। খাওয়াদাওয়া নিয়ে এতটাই সিরিয়াস যে সতীর্থরা হাসত। বছরের পর বছর এই রুটিন একদিনও মিস করেনি।
দলের সতীর্থরা বলেছে, রোনালদো ৩৫ বছর বয়সেও ২২ বছরের ছেলেদের মতো ট্রেনিং করত। এখনো করে।

কিন্তু সবচেয়ে কঠিন রাতটা ছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে।
কোয়ার্টারফাইনালে মরক্কোর কাছে হারল পর্তুগাল। রোনালদো পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে ছিল, কারণ কোচ তাকে প্রথম একাদশে রাখেনি। ১৪ বছর পর এই প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টে সে বেঞ্চে। ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ল চোখে জল।
সেই মুহূর্তে যেকেউ বলত, এইবার শেষ। ৩৭ বছর বয়সে এই অপমান সহ্য করে আর না।
কিন্তু রোনালদো ফিরে এল।

আবার পর্তুগাল জার্সিতে। আবার গোল। আবার রেকর্ড। আর এখন ৪১ বছর বয়সে আবার বিশ্বকাপে। শেষবারের মতো। একটাই স্বপ্ন নিয়ে, যেটা পাঁচবার চেষ্টা করেও পাওয়া হয়নি।
এইটাই রোনালদোর সবচেয়ে বড় গল্প। ট্রফি জেতাটা না। বারবার উঠে দাঁড়ানোটা।
এখন একটু ভাবো।

তুমি একটা পরীক্ষায় ফেল করেছ, দুইটা ইন্টার্নশিপে রিজেক্ট হয়েছ, একটা প্রজেক্ট কাজ করেনি। আর তুমি ভাবছ ছেড়ে দেওয়াই ভালো। কিন্তু রোনালদো পাঁচটা বিশ্বকাপে গিয়ে একটাও ট্রফি পায়নি। বেঞ্চে বসে কেঁদেছে। তারপরেও উঠে দাঁড়িয়েছে। আবার ট্রেনিং করেছে। আবার গোল করেছে। আবার স্বপ্ন দেখেছে।

কারণ সে একটা জিনিস বিশ্বাস করে। যতক্ষণ মাঠে আছি, সুযোগ আছে। মাঠ ছেড়ে গেলে সুযোগও শেষ।

তোমার ক্ষেত্রেও এইটাই সত্যি।
যতক্ষণ চেষ্টা করছ, সুযোগ আছে। থেমে গেলে গল্প শেষ। আর থেমে যাওয়াটা হারের চেয়েও বড় পরাজয়, কারণ হারলে আবার উঠে দাঁড়ানো যায়, কিন্তু থেমে গেলে আর শুরু করার ইচ্ছাটাই হারিয়ে যায়।
রোনালদো ৪১ বছর বয়সে মাঠে নামছে কারণ সে থামেনি। 
আর তুমি কত বছর বয়সে থেমে গেছ?


মার্কিন সামরিক সহায়তা শূন্যে নামাতে চান নেতানিয়াহু

মার্কিন সামরিক সহায়তা শূন্যে নামাতে চান নেতানিয়াহু