ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট, তীব্র পানি সংকট

কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট, তীব্র পানি সংকট ছবি: সংগৃহীত
ad728

রাজধানীর মিরপুরের কালশী বস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৩টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় আগুন নেভানোর প্রধান উপাদান পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার (২৫ মে) রাতে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


ফায়ার সার্ভিস জানায়, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশী বস্তির একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। বাঁশ, কাঠ ও প্লাস্টিকের ছাউনি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারপাশের শত শত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে আরও ১১টি ইউনিটকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে ফায়ার ফাইটারদের ১৩টি দল আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।


ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বস্তি এলাকার ভেতরে বা কাছাকাছি কোনো পানির দীর্ঘস্থায়ী উৎস (যেমন পুকুর বা জলাশয়) না থাকায় আগুন নেভানোর কাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। দূর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির মাধ্যমে পানি এনে কাজ চালাতে হচ্ছে, যা আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার পথে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সর্বশেষ পরিস্থিতি:

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, “আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রাথমিকভাবে এর সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ কত, তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আগুনে দগ্ধ বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বস্তির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

 মিরপুরের কালশী ও চলন্তিকা বস্তিতে এর আগেও একাধিকবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বস্তিগুলোতে ফায়ার সেফটি বা পানির বিকল্প ব্যবস্থা না রাখা এবং অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগের কারণেই বারবার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। হাজার হাজার ছিন্নমূল মানুষের এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।